ফার্মাসিস্ট হতে চান? উচ্চ মাধ্যমিকের পর থেকে শুরু কারুন
বর্তমান যুগে ফার্মাসিস্ট পেশাটি একটি সম্মানজনক ও চাহিদাসম্পন্ন ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত। ঔষধ প্রস্তুতকরণ, বিতরণ এবং রোগীদের সঠিক ঔষধ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা অপরিসীম। আপনি যদি উচ্চ মাধ্যমিকের পর ফার্মাসিস্ট হতে আগ্রহী হন, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি এই পেশায় প্রবেশ করতে পারেন।প্রথম ধাপ: সঠিক শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন
ফার্মাসিস্ট হওয়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিক (১০+২) স্তরে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করা আবশ্যক। বিশেষ করে, পদার্থবিদ্যা (Physics), রসায়ন (Chemistry) এবং জীববিজ্ঞান (Biology) বা গণিত (Mathematics) বিষয়গুলিতে ভালো ফলাফল প্রয়োজন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ৫০% নম্বর প্রাপ্তি আবশ্যক।
দ্বিতীয় ধাপ: উপযুক্ত কোর্স নির্বাচন
উচ্চ মাধ্যমিকের পর ফার্মাসি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। আপনার লক্ষ্য ও আগ্রহ অনুযায়ী নিচের কোর্সগুলোর মধ্যে থেকে নির্বাচন করতে পারেন:
১. ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি (D.Pharm)
- সময়কাল: ২ বছর
- যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান বিভাগ) উত্তীর্ণ
বর্ণনা: এই কোর্সটি ফার্মাসির মৌলিক জ্ঞান প্রদান করে এবং ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিক যোগ্যতা প্রদান করে।
২. ব্যাচেলর অফ ফার্মেসি (B.Pharm)
- সময়কাল: ৪ বছর
- যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান বিভাগ) উত্তীর্ণ
বর্ণনা: এই কোর্সটি ফার্মাসির বিস্তৃত জ্ঞান প্রদান করে এবং গবেষণা, উৎপাদন, বিপণন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ দেয়।
৩. ডক্টর অফ ফার্মেসি (Pharm.D)
- সময়কাল: ৬ বছর (৫ বছর পাঠ্যক্রম + ১ বছর ইন্টার্নশিপ)
- যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান বিভাগ) উত্তীর্ণ
বর্ণনা: এই কোর্সটি ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও রোগী পরিচর্যায় বিশেষজ্ঞ তৈরি করে এবং "ডক্টর" উপাধি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে।
ফার্মাসি কোর্সে ভর্তি হতে হলে বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:
- WBJEE (West Bengal Joint Entrance Examination): পশ্চিমবঙ্গের ফার্মাসি কলেজগুলিতে ভর্তি হওয়ার জন্য। Read more
- NEET (National Eligibility cum Entrance Test): কিছু ফার্মাসি কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। Read more
প্রতিষ্ঠানভেদে ভর্তি প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা উচিত।
চতুর্থ ধাপ: নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রাপ্তি
ফার্মাসি কোর্স সম্পন্ন করার পর, আপনাকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ফার্মাসি কাউন্সিলে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর আপনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
পঞ্চম ধাপ: ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ
ফার্মাসিস্ট হিসেবে আপনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে পারেন , যেমন:
- হাসপাতাল ও ক্লিনিক: রোগীদের ওষুধ প্রদান ও পরামর্শ।
- ঔষধ কোম্পানি: উৎপাদন, গুণমান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন ইত্যাদি।
- রিটেইল ফার্মেসি: ওষুধ বিক্রয় ও গ্রাহক সেবা।
- গবেষণা প্রতিষ্ঠান: নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়ন।
ফার্মাসিস্ট হওয়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের পর সঠিক কোর্স নির্বাচন, প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফলতা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন। এই পেশায় আপনি স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন এবং একটি সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন।

No comments:
Post a Comment