কিভাবে ফার্মাসিস্ট হবেন | ফার্মাসি কোর্সের সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
বর্তমান যুগে ফার্মাসি একটি অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন এবং সম্মানজনক পেশা। চিকিৎসা ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো ফার্মাসি, যেখানে ঔষধ প্রস্তুতকরণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণ সম্পর্কে পেশাগত জ্ঞান অর্জন করে একজন শিক্ষার্থী ফার্মাসিস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো—কিভাবে ফার্মাসিস্ট হওয়া যায়, ফার্মাসি কোর্সের ধরন, যোগ্যতা, কোর্সের মেয়াদ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ফার্মাসি কোর্স কী?
ফার্মাসি কোর্স হলো এমন একটি শিক্ষাক্রম, যেখানে ঔষধ বিজ্ঞানের নানান দিক যেমন: রাসায়নিক গঠন, কার্যপ্রণালী, ডোজ, সাইড ইফেক্ট, সংরক্ষণ ইত্যাদি সম্পর্কে শেখানো হয়।
এই কোর্স শেষ করে আপনি বিভিন্ন জায়গায় ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন, যেমন—হাসপাতাল, ঔষধের দোকান, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, রিসার্চ সেন্টার ইত্যাদি।
ফার্মাসি কোর্সের ধরণ
ফার্মাসি কোর্স মূলত ৩ ধরনের হয়:
- D.Pharm (Diploma in Pharmacy) – ২ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স
- B.Pharm (Bachelor in Pharmacy) – ৪ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর ডিগ্রি
- M.Pharm (Master in Pharmacy) – ২ বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স
যোগ্যতা (Eligibility Criteria)
1. D.Pharm:
- মাধ্যমিক (১০+২) পাশ হতে হবে।
- বিজ্ঞান শাখায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান/গণিত আবশ্যক।
- ১০+২ পাশ হতে হবে বিজ্ঞান বিভাগে (Physics, Chemistry, Biology/Math)।
- নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রবেশিকা পরীক্ষার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হয় (যেমন: WBJEE, GPAT, NEET ইত্যাদি)।
- B.Pharm পাশ করতে হবে।
- কিছু ক্ষেত্রে GPAT স্কোর প্রয়োজন হয়।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বহু সরকারী ও বেসরকারী কলেজে ফার্মাসি কোর্স পড়ানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান:
- Jadavpur University, Kolkata
- BCDA College of Pharmacy & Technology
- NSHM Knowledge Campus
- West Bengal State Council of Technical Education অধীনস্থ কলেজসমূহ
- ফার্মাসিস্ট হওয়ার পর আপনি বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে পারেন:
- হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ফার্মাসিস্ট
- ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ বা কিউসি অফিসার
- ঔষধ কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে (R&D)
- নিজস্ব ফার্মেসি খোলা
- সরকারি চাকরির সুযোগ (রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক)
আয় এবং ক্যারিয়ার
প্রথমদিকে বেসরকারি ক্ষেত্রে আয় হতে পারে মাসিক 25,000 – 50,000। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়লে আয়ও বৃদ্ধি পায়। সরকারি ক্ষেত্রে আয় আরও বেশি, এবং সঙ্গে থাকে অন্যান্য সুবিধাও।
ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন। এই পেশায় আপনি শুধু আর্থিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও সম্মানিত হবেন। ফার্মাসি হলো স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ—যেখানে একজন ফার্মাসিস্ট রোগীর চিকিৎসার পাশে থেকে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।
তাই আর দেরি নয়, যদি আপনি বিজ্ঞানপ্রেমী হন ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান—তাহলে ফার্মাসি পেশায় নিয়োজিত হতে পারে আপনার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত!

No comments:
Post a Comment